শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ

আদিতমারীতে আ’লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

যাচাই বাছাই শেষে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী রফিকুল আলমের মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসের বাছাই কমিটি।

মঙ্গলবার(১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই বাছাই শেষে তার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল ঘোষনা করেন বাছাই কমিটি।

রফিকুল আলম আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক। তিনি সাপ্টিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় তিন জনকে বাগিয়ে মনোনয়ন পান রফিকুল আলম। এ মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের কয়েক দফায় সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক ও ৩ পুলিশসহ ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ১৪জনের নামসহ অজ্ঞতনামা দেড়শত আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। যার কারনে জেলার সব থেকে উত্তেজনা পুর্ন নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে এ উপজেলায়।

সেই আলোচিত মনোনয়নটি মঙ্গলবার বিকেলে বাতিল ঘোষনা করেন যাচাই বাছাই কমিটি। এ প্রার্থীর নিজ নামিও বিএডিসি’র সরকারী সার বিক্রেতার লাইসেন্সটি (সনদ) ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ছোট ভাই রেজা উদ দৌলার নামে এফিডেভিট করে পরবর্তিতে তা বাতিল করেন। সেই লাইসেন্স মুলে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারী বাফার গোডাউন থেকে সার উত্তোলন করা হয়। নতুন করে এফিডেভিট না করে মনোনয়নের সাথে বাতিলকৃত এফিডেভিট পত্রটি সংযোজন করেন এ প্রার্থী। যা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইন ১৯৯৮ এর ৮(জ) ধারা মতে অবৈধ বলে গন্য করেন বাছাই কমিটি।

প্রার্থী রফিকুল আলম জানান, সরকারী সার ব্যবসার সনদপত্রটি ছোট ভাই রেজা উদ দৌলার নামে এফিডেভিট করে দেন। কিন্তু বাছাই কমিটি ওই এভিডেভিটটি বিধি সম্মত নয় উল্লেখ করে তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন। তবে মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করবেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক ইমরুল কায়েস জানান, অন্যায়ভাবে কেউ কোনদিন লাভবান হতে পারেনি। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধুর একজন সহযোদ্ধা ও আদিতমারী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ছিলেন। সেই দিক থেকে এখানে আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তাছাড়া গত নির্বাচনে এই উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর সাথে তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন আর আ’লীগ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।

জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা জেলা নির্বাচন অফিসার মঞ্জরুল হাসান জানান, প্রার্থীর সার ব্যবসার লাইসেন্সের(সনদ) এফিডেভিট পত্রটি বিধি সম্মত না হওয়ায় রফিকুল আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন বলেও জানান তিনি।

এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক ইমরুল কায়েস ও জাতীয় পার্টির নিগার সুলতানা রানী চেয়ারম্যান পদে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com